ডিআরইউর নতুন সভাপতি সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল

 

ডিআরইউর নতুন সভাপতি সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল



ডিআরইউর নতুন সভাপতি আবু সালেহ আকন (বাঁয়ে) ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল .. ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ২০২৫ সালের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান প্রতিবেদক আবু সালেহ আকন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র প্রতিবেদক মাইনুল হাসান সোহেল।

শনিবার সকাল ৯টায় রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ডিআরইউর মোট ১ হাজার ৭৪৪ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৪২৫ জন সদস্য ভোট দিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় সোয়া ছয়টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন ডিআরইউর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এ আজিজ।

সভাপতি পদে আবু সালেহ আকন ৮০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুরসালিন নোমানী পেয়েছেন ৪৯৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে মাইনুল হাসান সোহেল ৫৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহনাজ শারমীন পেয়েছেন ৩৬৪ ভোট।

নির্বাচিত অন্যরা হলেন সহসভাপতি গাযী আনোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাই তুহিন, দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, নারীবিষয়ক সম্পাদক রোজিনা রোজী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. এমদাদুল হক খান, আপ্যায়ন সম্পাদক মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ (মেজবাহ) ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যপদে নির্বাচিতরা হলেন মো. জুনায়েদ হোসাইন (জুনায়েদ শিশির), আক্তারুজ্জামান, মো. বোরহান উদ্দীন, আমিনুল হক ভূঁইয়া, মো. ফারুক আলম, সুমন চৌধুরী ও মো. সলিম উল্ল্যা (এস. ইউ সেলিম)।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

 ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর কাছে। ৯ মাসের যুদ্ধে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিল, দুই লাখ নারী নির্মম নির্যাতনের শিকার হলো, এক কোটি নর-নারীকে প্রতিবেশী ভারতে শরণার্থী হতে হলো। মুষ্টিমেয় আলবদর, রাজাকার, শান্তি কমিটি ছাড়া সব মানুষ যুদ্ধে শামিল হলো; তরুণরা অস্ত্র হাতে তুলে নিল; শিল্পীরা গানে গানে অনুপ্রেরণা জোগাল; কৃষকের পর্ণকুটির পরিণত হলো মুক্তিযুদ্ধের দুর্গে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সব মানুষের যুদ্ধ, জনযুদ্ধ।

অবশ্য আমাদের মুক্তিসংগ্রাম শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ভারতেই ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ তথা ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের মধ্য দিয়ে। তিতুমীর, হাজি শরীয়তউল্লাহ, ক্ষুদিরাম, সূর্য সেন, সুভাষ বসু, কাজী নজরুলের হাত ধরে সেই সংগ্রাম এগিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা আসেনি। ১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলা হয় পাকিস্তান কাঠামোর মধ্যে শৃঙ্খলিত। নতুন আঙ্গিকে মুক্তিসংগ্রাম শুরু হয় ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। 

১৯৫৪ সালে শেরেবাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের মধ্য দিয়ে জনমন যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে, ৯২-এর ক ধারা জারি করে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে জনতার স্বপ্ন বাধাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু জাতি পথ হারায় না। 


১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনে পাকিস্তানি শাসকদের বিদায়ী সালাম জানানোর হুমকি দেন। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ছয় দফা পেশ করেন, যার মাঝে লুকায়িত ছিল স্বাধীনতার বীজ। শেখ মুজিব কারারুদ্ধ হন। তাঁকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা খ্যাত রাষ্ট্রদ্রোহী মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। 

১৯৬৯ সালে ছয় দফাসংবলিত ১১ দফার ভিত্তিতে যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়, তাতে আওয়াজ ওঠে– ‘জেলের তালা ভাঙব/শেখ মুজিবকে আনব’। শেখ মুজিবসহ রাজবন্দিরা মুক্ত হন। আগরতলা মামলা প্রত্যাহৃত হয়। শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু খেতাবে ভূষিত হন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের ১৬০টি লাভ করে এবং পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলে পরিণত হয়। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করলে ছাত্র-জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ছয় দফা এক দফায় পরিণত হয়। স্লোগান ওঠে– বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।


শেখ মুজিবুর রহমান অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। বেসামরিক প্রশাসন তাঁর নির্দেশেই পরিচালিত হতে থাকে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে পরিচালিত হতে থাকে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতি। তরুণরা হয় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়। রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা সংগীতকে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তিসংগ্রামের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পল্টনের বিশাল সমাবেশে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার ডাক দেন।

মার্চের মাঝামাঝি শুরু হয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টোর সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তরের আলোচনা শুরু হলে তা ভেস্তে যায়। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে বাঙালি সেনা, পুলিশ, ইপিআর, ছাত্র-জনতার সশস্ত্র প্রতিরোধের মুখে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতি উদ্দীপ্ত হয়।

শেখ মুজিবকে বন্দি করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অবর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে ১০ এপ্রিল গঠিত হয় অস্থায়ী সরকার, যা মুজিবনগর সরকার বলে পরিচিত। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের এক আম্রকাননে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। তাঁর অবর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এ এইচ এম কামারুজ্জামান ও খোন্দকার মোশতাক আহমেদ। কর্নেল এম এ জি ওসমানীকে করা হয় প্রধান সেনাপতি। রণাঙ্গনের নেতৃত্বে ছিলেন শফিউল্লাহ, জিয়াউর রহমান, আবু তাহের, খালেদ মোশাররফ, মঞ্জুর প্রমুখ সামরিক কর্মকর্তা।


মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী ভারত আমাদের পাশে ছিল। এক কোটি লোককে আশ্রয় দিয়েছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল এবং চূড়ান্ত যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নসহ পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো সমর্থন দিয়েছিল। পাশ্চাত্যের লেখক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, জনগণ বাড়িয়েছিল সহযোগিতার হাত।

এ যুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিলেও ন্যাপ-ভাসানী, ন্যাপ-মোজাফফর, জাতীয় কংগ্রেসসহ বাম দলগুলো যোগ দিয়েছিল। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, মণি সিংহ, অধ্যাপক মনোরঞ্জন ধর সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। আলবদর, রাজাকার, শান্তি কমিটি ছাড়া সব মানুষই স্বাধীনতার সূর্যোদয়ে সারথি।

ছেড়ে দেয়া হচ্ছে সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে

 

ছেড়ে দেয়া হচ্ছে

সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে



সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে আটকের পর পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন নেয়ার শর্তসহ নানা দিক বিবেচনায় শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে।


ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ মুন্নী সাহাকে ডিবিতে আনার পর প্যানিক অ্যাটাক হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন নেয়ার শর্তে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। রাত ২টার মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ হবে।’

এর আগে সন্ধ্যায় কারওয়ান বাজার এলাকায় মুন্নী সাহাকে দেখে স্থানীয়রা ঘিরে ধরে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। 


ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার (১৭) নিহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় ওই মামলা করেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামরুল ইসলাম।

সেই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সদস্য এবং পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে ৭ সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে, তাদের একজন মুন্নী সাহা জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সাংবাদিক মুন্নী সাহা আটক

সাংবাদিক মুন্নী সাহা আটক



রাত ১০টার দিকে জনতা টাওয়ারের অফিস থেকে বের হওয়ার পর
স্থানীয় কয়েকজন মুন্নী সাহাকে ঘিরে ধরেন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কারওয়ানবাজার থেকে সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে আটক করা হয়।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিক মুন্নী সাহা আজ শনিবার রাত ১০টার দিকে জনতা টাওয়ারের অফিস থেকে বের হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ধরেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মুন্নী সাহাকে নিয়ে যাওয়ার পর শতাধিক ব্যক্তি তাঁর বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন। মুন্নী সাহা এক টাকার খবর নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক।


পুলিশ সূত্রগুলো বলছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুন্নী সাহাকে থানা থেকে মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মুন্নি সাহার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।


মুন্নি সাহা
ছবি মুন্নি সাহার ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার হন একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত। এর আগে গত ২১ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশনের চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর ২৪ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক শেখ জামাল গ্রেপ্তার হন। আর ১৬ নভেম্বর রাতে দেশ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি পুলিশ।

ভারতের গণমাধ্যমের ভূমিকা স্বাভাবিক সম্পর্কে সহায়ক নয়: তৌহিদ হোসেন

 

ভারতের গণমাধ্যমের ভূমিকা স্বাভাবিক

সম্পর্কে সহায়ক নয়: তৌহিদ হোসেন


রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বক্তব্য দেন

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যখন একটা বিবৃতি প্রচার করা হয়, সেটা কিন্তু প্রথম পৃষ্ঠায় আসা উচিত, ভেতরের পাতায় নয়। আমি বলছি, এটা আমরা পরামর্শ দিচ্ছি। আমি বলতে পারি না যে এটা প্রথম পৃষ্ঠায় যেতে হবে। এটা অবধারিতভাবে আপনাদের সিদ্ধান্ত । আমি মনে করি, মানুষ চাইবে এটা আসলে প্রমিনেন্টলি ডিসপ্লে করা হোক। যখন আমরা কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি।’
আলোচনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করে বর্তমান সরকার সঠিক কাজটাই করেছে। ধর্মভিত্তিকভাবে এই ইস‍্যুটা দেখার সুযোগ নেই। যে আইন অমান‍্য করবে, তাঁকে বিচারের আওতায় আনা মৌলিক কাজ।

৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের মাত্রা ও সমীকরণ বদলে গেছে। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক বিনির্মাণ করতে হবে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের মতো জাতীয় স্বার্থের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য।

আজ শনিবার রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন। বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারতের গণমাধ্যম যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটি দুটি দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সহায়ক নয়।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক: প্রত্যাশা, প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে ভারতের সঙ্গে এক রকম সম্পর্ক ছিল। ৫ আগস্টের পরে সেটার পরিবর্তন হয়ে গেছে, এটা হলো বাস্তবতা। এ বাস্তবতার নিরিখেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বিনির্মাণ করতে হবে এবং এটা অব্যাহত রাখতে হবে। যেকোনো পরিবর্তনেই সময় লাগে। আমার বিশ্বাস যে ভারত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কীভাবে এগিয়ে নিতে হবে, সেটা উপলব্ধি করবে এবং করছেও সেটা। আমি প্রত্যাশা করব, তারা সে অনুযায়ী এগোবে।’

দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিবন্ধকতা তো আছে কিছুই। পূর্ববর্তী সরকার ভারতের যে বিষয়গুলোয় উদ্বেগ ছিল, সেগুলো দূর করার যথাসাধ্য চেষ্টা তারা করেছে। আমাদেরও কিছু উদ্বেগ ছিল, আছে। যদি একই সঙ্গে আমাদের উদ্বেগগুলো যথাযথভাবে দূর করা হতো, তাহলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে একধরনের একটা দোলাচল যে আছে, সেটা কিন্তু থাকত না। মোটা দাগে আমরা দেখতে পাই, আমাদের যেসব উদ্বেগ ছিল, ভারত সেগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়নি।’

বর্তমান টানাপোড়েন সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্কের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্পর্ক তো এক দিনের এক বছরের বা এক যুগের নয়, বেশি সময়ের ব্যাপার। সম্পর্ক সব সময় একরকম যাবে, এমনও কথা নেই। আমরা আশাবাদী হতে চাইব যে আমরা একটা ভালো সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারব, যাতে দুই পক্ষের স্বার্থ–সংরক্ষিত হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এমন হবে, যাতে উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়, যাতে একদিকে না যায়।’

দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পানিবণ্টনে অনিষ্পন্ন বিষয় ও সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ টানেন তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যার বিষয়টি সব সময় খুব শক্তভাবে বলেছি। এমনকি সামনাসামনি যখন ভারতীয়দের সঙ্গে আলাপ হয়েছে, তখন তাদের বলেছি যে এটা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা (বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত) পৃথিবীর একমাত্র সীমান্ত, যেখানে দুই দেশ যুদ্ধরত নয়। অথচ যেখানে মানুষকে গুলি করে মারা হয়। পৃথিবীতে আর কোথাও এটা নেই। কাজেই ভারতকে অবশ্যই এই জিনিস দেখতে হবে। এটা একটা শক্ত প্রতিবন্ধকতা। আসলে এভাবে মানুষকে গুলি করে মারার কোনো প্রয়োজন নেই। অপরাধ তো হয়ই। পৃথিবীর সব সীমান্তে অপরাধ হয়। অপরাধ হয় বলে গুলি করে মারতে হবে, এর তো কোনো প্রয়োজন নেই। অপরাধের জন্য কাউকে গুলি করে মারলে তিনটা কাজ একসঙ্গে করে ফেলা হচ্ছে। তাকে অভিযুক্ত করা, বিচার করা এবং শাস্তি বিধান করা। যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেই থাকে, তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করে বিচার করা হোক।’

দুই দেশের সম্পর্কের সাম্প্রতিক তিক্ততার জন্য ভারতের গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের মিডিয়া হঠাৎ করে একেবারে যেন ভয়ংকরভাবে লেগে পড়ল আমাদের বিরুদ্ধে। আমি এটা স্পষ্টভাবে এবং খোলাখুলিভাবে বলেছি, বিভিন্ন বিবৃতিতে সেটা উল্লেখ করেছি। ভারতের মিডিয়া যে ভূমিকা নিয়েছে, সেটা কোনো অবস্থাতেই দুটি দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক নয়। তারা কেন এটা করছে, তারা ভালো বলতে পারবে।’ তিনি বলেন, এখানে তাঁর মনে হয় এ দেশের গণমাধ্যমের ভূমিকা নেওয়ার প্রয়োজন আছে। ভারতের গণমাধ্যমে যে মিথ্যাচার হচ্ছে, সেগুলোকে তুলে নিয়ে আসা ফ্যাক্ট চেকের টুলের মাধ্যমে।

এবি পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র তো কখনো বন্ধু হতে পারে না। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হয় কী করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভারতীয় দালালদের দেয়াল ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জনগণের পাঁচ বছর থেকে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুর রব, এসআইপিজির পরিচালক অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম হক। সঞ্চালনায় ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন।

হাসপাতালে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ওপর হামলা

 

হাসপাতালে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ওপর হামলা



বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ওপর হামলা করেছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের আহত শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে নূরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে আন্দোলনে আহত কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।

হাসপাতালে বুলবুল আহমেদ নামে একজন বলেন, ঘটনার পর শিক্ষার্থীদেরকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউর রহমানের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য পরিচালককে ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেইলি রোডের নওরাটন কলোনি থেকে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০০১ সাল থেকে সংসদে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করেন নূর। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নীলফামারী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্প রক্ষা করতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িশিল্প রক্ষা করতে চান ট্রাম্প


আমদানি করা গাড়িতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির বাজার রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এবারের নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই ট্রাম্প বলেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল হাতিয়ার হবে শুল্ক। ইতিমধ্যে অঙ্গীকার রক্ষার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই মেক্সিকো ও কানাডার সব পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি গত সোমবার। খবর সিএনএন


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক আরোপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি গাড়ির বাজার রক্ষা সহজ হবে না, সমস্যা আছে। কারণ হলো, গাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, ইঞ্জিন বা যন্ত্রাংশ অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ট্রাম্প কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবেন, তা-ই বড় প্রশ্ন।

যদিও কত শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশে তৈরি হয় মার্কিন সরকারের, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা আছে। বিষয়টি হলো, কানাডায় তৈরি যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্রে দেশীয় বিবেচনা করা হয়। ‘আমেরিকান মেড’ বা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি গাড়ির হিসাব করা হলে দেখা যাবে, তা ৭৫ শতাংশের বেশি হবে না। যার অর্থ ২৫ শতাংশ যন্ত্রাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাইরের দেশগুলো থেকে আসে। ট্রাম্প যদি দেশজুড়ে বিক্রি হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িতে ব্যবহৃত আমদানি করা যন্ত্রাংশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।


মার্কিন সরকারের তথ্যমতে, কেবল দুটি গাড়ি ৭৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি। গাড়ি দুটি হলো—টেসলা মডেল ৩ ও হোন্ডা রিজলাইন। যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি যন্ত্রাংশ রয়েছে, এমন বেশির ভাগ যানবাহন টেসলা ও বিদেশি ব্র্যান্ডের। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সংযোজন করা গাড়ির মধ্যে আছে হোন্ডা, হুন্দাই, কিয়া, নিসান, মাজদা, সুবারু ও টয়োটা।

যন্ত্রাংশ ও উপকরণের ওপর নির্ভর করে গাড়িশিল্প। এর মধ্যে যেমন নাট-বোল্টের মতো সস্তা উপকরণ, তেমনি আছে কম্পিউটার চিপ ও ইলেকট্রনিকসের মতো ব্যয়বহুল উপকরণ। মার্কিন কারখানাগুলোয় এসব উপকরণ চাহিদা অনুসারে যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত হয় না।


ট্রাম্পের দাবি, শুল্ক মূলত রপ্তানিকারক বিদেশি রাষ্ট্র পরিশোধ করবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আমদানি করা পণ্য যারা কেনে, তাদেরই শুল্কের বোঝা বহন করতে হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত খরচ গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। শুল্কের ভারও ক্রেতাদের বহন করতে হবে।

এদিকে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির জেরে গত মঙ্গলবার বেশির ভাগ গাড়ি কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। জেনারেল মোটরসের (জিএম) শেয়ারদর ৯, ফোর্ডের ৩ ও স্টেলান্টিসের ৬ শতাংশ হ্রাস পায়। টয়োটার শেয়ারের দাম ২ ও হোন্ডার কমেছে ৩ শতাংশ।

এদিকে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকির প্রসঙ্গে সম্প্রতি চীন বলেছে, বাণিজ্যযুদ্ধে কেউ জিতবে না। সে জন্য এই যুদ্ধ শুরু করে লাভ নেই। তবে ২০১৮ সালে প্রথম ট্রাম্প জমানায় চীনের বিরুদ্ধে যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়, তার জেরে চীনের অর্থনীতির গতি কমেছে। বিনিয়োগকারীরাও দেশটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: আসামিদের দণ্ড বহাল থাকবে কি না, জানা যেতে পারে কাল

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা:

আসামিদের দণ্ড বহাল থাকবে কি না,

জানা যেতে পারে কাল


হাইকোর্ট ভবনফাইল ছবি

ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় আগামীকাল রোববার জানা যেতে পারে।

আজ শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের রোববারের কার্যতালিকায় রায়ের জন্য মামলা দুটি (ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিল) ৫৪ ও ৫৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

এর আগে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ ২১ নভেম্বর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি গ্রহণ শেষ করেন। সেদিন আদালত মামলা দুটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় রায়ের জন্য মামলা দুটি আদালতের রোববারের কার্যতালিকায় উঠল।

আদালতে লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ দণ্ডিত বেশ কয়েকজনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। আজ তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মামলা দুটি আগামীকাল রোববার রায়ের জন্য এসেছে। কার্যতালিকায় ৫৪ ও ৫৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় করা মামলায় (হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা) ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন ও ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায়ের পর ২০১৮ সালে বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলা দুটির নথিপত্র হাইকোর্টে এসে পৌঁছায়। এটি সংশ্লিষ্ট শাখায় ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

আইনজীবীরা বলেছেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল ও আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে গত ৩১ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জসিম সরকার, রাসেল আহমেদ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল লাবনী আক্তার। আদালতে লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টুসহ দণ্ডিত বেশ কয়েকজনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান। তিনজন দণ্ডিতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। ২১ আগস্টের সেই গ্রেনেড হামলা ও হত্যাযজ্ঞের ঘটনার তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নানা তৎপরতা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ-সংক্রান্ত মামলা দুটির (হত্যা ও বিস্ফোরক) নতুনভাবে তদন্ত শুরু করে। ২০০৮ সালে ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ওই হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। পরে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মামলার অধিকতর তদন্ত হয়। এরপর তারেক রহমানসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

শুনানির বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেছিলেন, এই মামলার দ্বিতীয় অভিযোগপত্রে যাদের আসামি (তারেক রহমানসহ অন্যরা) করা হয়েছে, সেটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথমে দেওয়া হয়নি, সরাসরি জজ আদালতে দায়ের করে। সে জন্য এই অভিযোগপত্র ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী গৃহীত হতে পারে না। উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের নজির আছে যে, যদি দেখা যায় পুরো মামলায় অভিযোগ কোনো আসামির বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়নি ও যথাযথভাবে তদন্ত হয়নি, সে ক্ষেত্রে সব আসামি খালাস পেলে যারা আপিল করেননি, ওই রায়ের সুবিধা তারাও পেতে পারেন। তারেক রহমান ও কায়কোবাদসহ কয়েকজন আপিল করতে পারেননি। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমান ও কায়কোবাদসহ তাদের নির্দোষ সাব্যস্ত করা যেতে পারে।

শুনানিতে তিন আসামির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছিলেন, মুফতি হান্নানের দ্বিতীয় জবানবন্দির ভিত্তিতে অধিকতর যে তদন্ত হয়েছে, সেটির আইনগত ভিত্তি নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা প্রদান করা হয়েছে। এই মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে শুনানিতে তুলে ধরেছেন। এসব দিক বিবেচনায় আসামিদের খালাসের আরজি জানিয়েছেন।

কলকাতায় পতাকা পোড়ানোয় তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের, চিন্ময়ের আইনি অধিকার চায় ভারত

 

কলকাতায় পতাকা পোড়ানোয় তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের, চিন্ময়ের আইনি অধিকার চায় ভারত



বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য বিবৃতি চলছেই। গত কয়েকদিনের মতো শুক্রবারও দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশে পারস্পরিক ইস্যুতে বার্তা দেয়া হয়েছে।

কলকাতায় ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানোকে 'দুঃখজনক' উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

'বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ' নামে একটি সংগঠনের 'সহিংস' প্রতিবাদের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।

বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে শুক্রবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে ওই সমাবেশে যোগ দেন যা এক পর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়।

"পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা ভবনের সীমানায় পৌঁছে যান," উল্লেখ করে এতে আরো বলা হয়, "তারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ করেন এবং প্রধান উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা পোড়ান।"

যদিও এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই মনে করছে বাংলাদেশ।

তবে, ডেপুটি হাইকমিশনের সবার মধ্যে একটা 'নিরাপত্তাহীনতার বোধ বিরাজ করছে' বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, বাংলাদেশ সকল ধরনের সহিংসতার বিপক্ষে উল্লেখ করে, ভারতে দেশটির কূটনৈতিক মিশনসমূহ এবং এর কূটনীতিক ও অ-কূটনীতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

     কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, বৃহস্পতিবারের ছবি

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়েও স্থান পায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা যে হুমকির মধ্যে পড়ছেন এবং তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে, সেই বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ভারত বারবার উত্থাপন করেছে। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই সব সংখ্যালঘুর নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে।"

“বারবার চরমপন্থী বক্তব্য দেওয়া, সহিংসতা ও উস্কানি দেওয়ার ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এই ঘটনাগুলিকে শুধুমাত্র গণমাধ্যমের বাড়িয়ে দেখাচ্ছে বলে নস্যাৎ করে দিলে চলবে না। আমরা আবারও বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশে আবেদন জানাতে চাই যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে সব ধরণের পদক্ষেপ নিক তারা,” মন্তব্য মি. জয়সওয়ালের।

ইসকন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত একটি সংগঠন হিসাবেই আমরা ইসকনকে দেখি, যাদের সমাজসেবা করার শক্তপোক্ত রেকর্ড আছে।”

তিনি বলেন, “চিন্ময় দাসের গ্রেফতারি নিয়ে আমরা আগেই একটি বিবৃতি দিয়েছি। ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করব এই প্রক্রিয়া ন্যায্য, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে চলবে, যেখানে তাদের আইনি অধিকার সম্পূর্ণভাবে রক্ষিত হবে।”

শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার যে বিবৃতি দিয়েছেন, সে ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি আবারও শুধু এটুকই বলব যে বাংলাদেশের সরকারের কাছে ভারত সরকার নিজেদের উদ্বেগের কথাগুলো জানিয়েছি যে বাংলাদেশের সরকারকেই সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।“

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি যেভাবে চলছে, তা চলতে থাকবে বলেও মন্তব্য করেছেন রণধীর জয়সওয়াল।

         মঙ্গলবার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়

অবশ্য শুক্রবারের বক্তব্য ও বিজ্ঞপ্তিকে বিগত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও সেদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে কথিত হামলার ঘটনা নিয়ে ভারতের হিন্দুত্ববাদী দলগুলি শুরু থেকেই বেশ আগ্রাসী প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে। গণমাধ্যমেও গুরুত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ।

ভারতের প্রধান হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি এখনও পর্যন্ত শুধুমাত্র কড়া বিবৃতির মধ্যেই তাদের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখেছে, তবে পশ্চিমবঙ্গে দলটির নেতারা কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নেমে বাংলাদেশের ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। টেলিভিশনে বক্তব্য দিতে গিয়েও বিজেপি নেতাদের একাংশ বাংলাদেশ নিয়ে বেশ আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশ করছেন।

অন্যদিকে কেন পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করছেন না, তা নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

আবার ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের গত দুদিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে দুধরনের প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এক্ষেত্রে জাতীয় স্তরের ইংরেজি ও হিন্দি গণমাধ্যমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদনের স্পষ্ট ফারাক আছে বলেই মনে করছেন গণমাধ্যমের বিশ্লেষকরা।

যেখানে জাতীয় গণমাধ্যমগুলিতে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রাসী ‘প্রতিবাদী’ ধাঁচে খবর দেখানো হচ্ছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের খবরের কাগজগুলোতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসে গ্রেফতার ও তার পরবর্তী ঘটনাক্রম নিয়ে যা লেখা হচ্ছে, তা যথেষ্ট মাপা এবং নিরপেক্ষ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর মধ্যেই অবশ্য মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় অপরাধীরা যেখানে ধরা ছোয়ার বাইরে সেখানে একজন ধর্মীয় নেতা এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন কথা বলেছে তার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিবৃবিতে বাংলাদেশের হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহবান জানানো হয়।

অন্যদিকে ভারতের উদ্বেগ প্রকাশের পাল্টা বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, অতিশয় হতাশা ও গভীরভাবে অনুভূতিতে আঘাতের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করছে যে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে নির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে কিছু মহল তা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমন অপ্রমাণিত বিবৃতি শুধু সত্যের অপলাপই নয়, একই সঙ্গে তা দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বোঝাপড়ার চেতনার পরিপন্থি।

শিশুদের জন্য সিপরোসিন সিরাপ: ব্যবহার, ডোজ ও সতর্কতা

ভূমিকা সিপরোসিন সিরাপ (Ciprosin Syrup) হল সিপ্রোফ্লক্সাসিন (Ciprofloxacin) নামক অ্যান্টিবায়োটিকের একটি তরল সংস্করণ, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক...