সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ ১৬ জন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির

সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ ১৬ জন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীসহ ১৬ জনকে হাজির করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে আরেকটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় এই প্রতিবেদন দাখিল করবে। যাঁদের আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, মো. আব্দুর রাজ্জাক, কামরুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুক খান, দীপু মনি, গোলাম দস্তগীর গাজী, শাজাহান খান, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

এই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৫ জন। এর আগে গত ১৮ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ ৪৬ জনের গ্রেপ্তার ও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য এক মাস সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ


রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ 

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে এ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কোনো ট্রেন ছেড়ে যায়নি।

রেলের অস্থায়ী কর্মচারীরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকার এফডিসি ক্রসিংয়ে ব্যানার নিয়ে রেলপথ অবরোধ করেছেন। এর ফলে রেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। রেললাইনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে যা বললেন ইসি ও নেতারা

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে যা বললেন ইসি নেতারা

মহান বিজয় দিবসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে আসেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা। সাক্ষাৎকালে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সাক্ষাতে দুই রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, কূটনীতি এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। পরে, তারা একসঙ্গে কেক কেটে বাংলাদেশের ৫৪তম বিজয় দিবস স্মরণীয় করে তোলেন

বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনের সবুজ লনে আয়োজিত সংবর্ধনায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, যার মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এবং কৃষক জনতা লীগের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

সংবর্ধনা শেষে, রাজনৈতিক নেতারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী রোডম্যাপকে স্বাগত জানান। তারা বলেন,

এই নির্বাচনটি অংশগ্রহণমূলক হবে। সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, জনগণ যাদের পছন্দ করবে তারাই দায়িত্ব পাবে। আমরা চাই সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।

বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস মন্তব্য করেন,

যখন প্রয়োজন, তখন সংস্কার করাই হচ্ছে বাস্তবতা যুগ যুগ ধরে এটাই চলে আসছে।

mm

জামায়াতে ইসলামীর এক নেতা বলেন,

নির্বাচন বিলম্ব হলেও যদি তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক হয়, তবে জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে। আগে বা পরে নির্বাচন হলে তেমন ক্ষতি হবে না, তবে চ্যালেঞ্জ হবে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখা।

সময় নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ জানান,

২০২৫ সালের প্রথম থেকেই আমরা পুরোপুরি কাজে মনোযোগ দেব। জাতি তাকিয়ে আছে এই নির্বাচনের দিকে। পট পরিবর্তনের মূলে এটাই রয়েছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনসেটা সময়ই বলে দেবে।


১৪৫ কোটি মানুষের দেশ ভারত কেন আরও সন্তান চায়?

 

১৪৫ কোটি মানুষের দেশ ভারত কেন আরও সন্তান চায়?

দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর নেতারা ইদানীং বেশি সন্তান নেওয়ার পক্ষে কথা বলছেন। একসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ‘আমরা দুই, আমাদের দুই’ (হাম দো, হামারে দো) স্লোগান দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি ছাড়িয়ে চীনকে পেছনে ফেলেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২3 সালে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে ওঠে।

কেন সন্তান নেওয়ার আহ্বান?

যেখানে ভারতের জনসংখ্যা বিপুল, সেখানে আরও সন্তান নেওয়ার আহ্বান অনেকের কাছে বিস্ময়কর। এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে প্রজনন হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

  • অন্ধ্রপ্রদেশের উদ্যোগ:
    অন্ধ্রপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনার কথা বলেছেন। তিনি এমন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকা ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হবে।

  • তামিলনাড়ুর পদক্ষেপ:
    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নবদম্পতিদের বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি সন্তান নেওয়াও প্রয়োজনীয় হতে পারে। যদিও এটি প্রতীকী প্রস্তাব, তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

দক্ষিণ ভারতে প্রজনন হার হ্রাস

ভারতের জাতীয় গড় প্রজনন হার ২.১ হলেও দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে এটি এর চেয়ে অনেক কম। যেমন:

  • তামিলনাড়ু: ১.৪
  • অন্ধ্রপ্রদেশ: ১.৫
  • কর্ণাটক: ১.৬

এই হারে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে, যা আগামীতে আর্থিক ও সামাজিক কাঠামোয় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

রাজনৈতিক প্রভাব

দক্ষিণের রাজ্যগুলোর নেতাদের আরেকটি উদ্বেগ হলো আসন্ন নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস।

  • ২০২৬ সালের নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠনে জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এতে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলো (যেমন, উত্তর প্রদেশ, বিহার) আসন সংখ্যা বাড়াতে পারে।
  • ফলে তামিলনাড়ু, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।

আর্থসামাজিক বাস্তবতা

জনসংখ্যাবিদদের মতে, ভারতের প্রজনন হার কমার ফলে বার্ধক্যের হার দ্রুত বাড়ছে।

  • ১৯৫০ সালে নারীদের সন্তান জন্মদানের গড় হার ছিল ৫.৭, যা বর্তমানে ২-এ নেমে এসেছে।
  • দক্ষিণ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে এই হার এখন ১.৬%, যা ইউরোপের অনেক দেশের সমান বা কম।

দ্রুত বার্ধক্যের কারণে প্রভাব:

  1. বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে।
  2. কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর অভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।


জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে প্রজনন হার বাড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

  • ভারতের ৪০% প্রবীণ এখনো দরিদ্র।
  • সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত না হলে বার্ধক্যজনিত চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হবে।

উন্নত দেশগুলোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে ভারতের অনেক রাজ্য ধনী হওয়ার আগেই বুড়ো হয়ে যাচ্ছে।

উপসংহার:
ভারতে সন্তান নেওয়ার আহ্বান শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আর্থসামাজিক ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টা। তবে এই উদ্যোগগুলো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

স্বৈরশাসক আসাদের শেষ ঘণ্টাগুলো: যেভাবে পালালেন


 স্বৈরশাসক আসাদের শেষ ঘণ্টাগুলো: যেভাবে পালালেন

দুই যুগের বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসান

দুই যুগের শাসন শেষে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বিদ্রোহীদের দখলে সিরিয়া চলে যাওয়ার পর আসাদ এখন রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তার শাসনের শেষ দিনগুলোর বিস্তারিত তুলে এনেছে।

শেষ বৈঠক এবং পালানোর প্রস্তুতি

রয়টার্স জানায়, দেশত্যাগের আগের দিন আসাদ সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক করেন। সেখানে প্রায় ৩০ জন সেনা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। একজন কমান্ডার জানান, আসাদ রুশ সেনাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আসাদ সিরিয়া ছাড়েন—বিষয়টি বৈঠকে উপস্থিত কেউ বুঝতে পারেননি।

সেদিন সরকারি দপ্তরে দৈনন্দিন কাজ শেষ করে কর্মকর্তাদের বলেন, তিনি বাসায় ফিরবেন। তবে বাস্তবে তিনি বিমানবন্দরে গিয়ে দেশ ত্যাগ করেন।

আসাদের পরিবারের পরিণতি

আসাদের ছোটভাই মাহের, যিনি সিরিয়ার সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনের কমান্ডার ছিলেন, তাকেও ক্ষমতা ছাড়ার সিদ্ধান্ত জানাননি আসাদ। দামেস্ক পতনের পর মাহের হেলিকপ্টারে ইরাকে যান এবং সেখান থেকে রাশিয়ায় পৌঁছান।

আসাদের দুই মামাতো ভাই এহাব ও ইয়াদ মাখলৌফ বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে দামেস্ক ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। লেবাননের সীমান্তের কাছে বিদ্রোহীদের হামলায় এহাব নিহত হন এবং ইয়াদ আহত হন।

বিদ্রোহীদের অগ্রগতি এবং রুশ সমর্থন

বিদ্রোহীরা সিরিয়ার আলেপ্পোসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করলে আসাদ রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চান। তবে মস্কো সরাসরি হস্তক্ষেপে আগ্রহ দেখায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আসাদ নিরাপদ প্রস্থানের চেষ্টা করেন।

আসাদের একটি সূত্র জানায়, তিনি আরব আমিরাতে আশ্রয় চাইলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। আমিরাত জানায়, আসাদের বিরুদ্ধে আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়।

রাশিয়ার উদ্যোগ

রাশিয়া আসাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালায়। সিরিয়া থেকে তাকে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার সময় আকাশপথে কোনো হামলার শঙ্কা এড়াতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।

আসাদ শাসনের শেষ দিন

দামেস্ক থেকে বিদ্রোহীদের দখলে যাওয়ার পরপরই আসাদ রুশ সামরিক ঘাঁটিতে যান এবং সেখান থেকে মস্কোতে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন। বিদ্রোহীদের দক্ষিণে অগ্রসর হওয়ার সময় সিরিয়ার সরকার কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসানের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৩ বছরের শাসনের ইতি ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসাদের শাসনকে ক্রমেই দুর্বল করে দেয়।

জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষে

 জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষে: জানালেন প্রধান উপদেষ্টা


জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান।

ড. ইউনূস বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে নির্বাচন আয়োজনের জন্য আপনাদের সহযোগিতা কামনা করেছি। তবে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা নির্ভুল করার মাধ্যমে যদি নির্বাচন করতে হয়, তাহলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন সম্ভব হতে পারে। আর যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে অতিরিক্ত সংস্কার প্রয়োজন হয়, তবে ছয় মাসের মতো বাড়তি সময় লাগতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, এখন থেকে স্থানীয় ও জাতীয় সব নির্বাচনে নতুন ভোটারদের সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি উদাহরণ সৃষ্টি করা সম্ভব। “যদি প্রথমবারের ভোটাররা ১০০ শতাংশের কাছাকাছি সংখ্যায় ভোট প্রদান করে, তবে ভবিষ্যতে কোনো সরকার আর মানুষের ভোটাধিকার হরণ করার সাহস পাবে না।”


নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি

প্রধান উপদেষ্টা জানান, ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে এবং তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রথম কাজ হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। “গত তিনটি নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধতা থাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গত ১৫ বছরে যারা ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছেন, তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে পারলে তরুণদের প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে উঠবে।”


প্রবাসীদের ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার উদ্যোগী বলে জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “এবার আমরা এমন একটি নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা চালু করতে চাই, যার মাধ্যমে প্রবাসীরাও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অতীতে এটি নিয়ে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। এবার যেন তা সম্ভব হয়।”


নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন

ড. ইউনূস বলেন, “নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সময় এবং গভীর সংস্কারের প্রয়োজন। এই সংস্কারগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, আমরা একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে পারব।”

তিনি রাজনৈতিক দল, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সবাই মিলে আমরা যেন তরুণদের সর্বোচ্চ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং একটি সমৃদ্ধ নির্বাচন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করি।”

সমন্বয়ক রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্র পুড়িয়ে দিলেন

সমন্বয়ক রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্র পুড়িয়ে দিলেন

 রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্র পোড়ান সমন্বয়ক ইব্রাহিম নিরব। ছবি- ফেসবুক থেকে নেওয়া

বিজয় দিবসের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ইব্রাহিম নিরব। সোমবার দুপুরে একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন।

পরে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিরব আমন্ত্রণপত্রটি পুড়িয়ে ফেলছেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “খুনি হাসিনার ফ্যাসিস্ট দালাল রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর হাতে এখনও আমাদের ভাইদের রক্ত লেগে আছে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে তার পাঠানো দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলাম।”

এর আগে ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “ফ্যাসিস্টের দালাল রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর পদত্যাগ চাই। তার হাতেও আমার ভাইদের তাজা রক্ত লেগে আছে। বিজয় দিবসে তার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করছি।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির দপ্তর সেল প্রধান জাহিদ আহসানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “মহান বিজয় দিবসে ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ গ্রহণ করা গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংগঠনের কোনো নেতা বা কর্মী বঙ্গভবনের অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “জাতীয় গৌরবের এই দিনে ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিনিধিত্বকারী কারও সঙ্গে বিজয় দিবস উদযাপন জাতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অপমান করবে।”

রাষ্ট্রপতির আয়োজনে বিশিষ্টদের উপস্থিতি

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, বিদেশি কূটনীতিকরা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই আমন্ত্রণ গ্রহণ তাদের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

সংস্কারের জন্য কত মাস প্রয়োজন, তা জানা জনগণের অধিকার: তারেক রহমান

 সংস্কারের জন্য কত মাস প্রয়োজন, তা জানা জনগণের অধিকার: তারেক রহমান

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয় সময় সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আর কত সময় প্রয়োজন, তা জনগণের জানার অধিকার। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত জনগণের সামনে তাদের কর্মপরিকল্পনা ও রোডম্যাপ তুলে ধরা। এটি জনগণের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ

তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গুতে প্রতিদিন মানুষের মৃত্যু অব্যাহত। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে জনগণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের নামে শুধু সময়ক্ষেপণ করে, তাহলে জনগণের কাছে প্রশ্ন হবে—সংস্কার আগে নাকি সংসার আগে?”



৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিএনপি ইতিমধ্যে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব ঘোষণা করেছে। এই প্রস্তাবকে ভিত্তি ধরে সকল নাগরিকের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। তিনি দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান, জনগণের সঙ্গে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে।



স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের তাৎপর্য

তারেক রহমান বলেন, “১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের বছর, আর ২০২৪ হবে স্বাধীনতা রক্ষার বছর।” তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতের বিজয় দিবসগুলো শুধু উদযাপনের জন্য নয়, বরং জনগণের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের দায় পূরণের দিন হিসেবে অর্থবহ হয়ে উঠবে।


অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করা এখন সময়ের দাবি।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া হলে ষড়যন্ত্রের সুযোগ কমে আসবে।”

আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রতিনিধি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করলে তা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, আবদুল মঈন খান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এবং যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন।

বিজয় দিবসে পারস্পরিক সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তারা

বিজয় দিবসে পারস্পরিক সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তারা

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ও ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রতিবছরের মতো এবারও দুই দেশের প্রতিনিধিদল পরস্পর সফরে রয়েছেন।

বাংলাদেশের দল:
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৭ সদস্যের একটি দল ১৫ ডিসেম্বর রোববার ভারত সফরে গেছেন। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুর রহমান। এ দলে কর্মরত সেনা কর্মকর্তা মেজর মো. বদরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ফাহিমা ফেরদৌস ছাড়াও বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তা ও তাঁদের স্ত্রীরা রয়েছেন।


অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর কবির ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা ইয়াসমিন
  • কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির ও তাঁর স্ত্রী খালেদা মরিয়ম
  • মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী আশরাফ ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম
  • মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রোকেয়া রহমান
  • মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার ও তাঁর স্ত্রী আসমা ইয়াসমিন
  • মেজর (অব.) এ বি এম নুরুল আলম ও তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসি বেগম
  • কমোডর (অব.) আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী সাবেরা ওয়াহেদ চৌধুরী।

প্রতিনিধিদলটি ১৫-১৮ ডিসেম্বর কলকাতায় ‘বিজয় দিবস-২০২৪’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।

ভারতীয় দল:
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ১৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি পি সিংয়ের নেতৃত্বে ১৫-১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফর করছে। এ দলে রয়েছেন ক্যাপ্টেন সঙ্গীতা মলসহ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আটজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে ছয়জন সস্ত্রীক বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।


ভারতীয় দলের সাবেক কর্মকর্তারা হলেন:

  • কর্নেল (অব.) বনি সিং
  • কর্নেল (অব.) হরিশ চন্দ্র শাহ ও তাঁর স্ত্রী শীলা শাহ
  • কর্নেল (অব.) শিব ওম রানা ও তাঁর স্ত্রী এলা রানা
  • কর্নেল (অব.) মানিক চন্দ্র সাহা ও তাঁর স্ত্রী সুদক্ষিণা সাহা
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) অনুপ কুমার ও তাঁর স্ত্রী সুমতি কুমার
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তেজিন্দার সিং ও তাঁর স্ত্রী রামিন্দার সিং
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এম সিদ্দিক ও তাঁর স্ত্রী শাহনাজ সিদ্দিক
  • ক্যাপ্টেন (অব.) সতীশ ভাটিয়া।

প্রতিবছর বিজয় দিবসে এ ধরনের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তারা আবার একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান। এটি তাঁদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক আরও গভীর করে।

দেশকে আরও উন্নত ও স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর

 দেশকে আরও উন্নত ও স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশকে আরও উন্নত, শক্তিশালী এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ রোববার এক বাণীতে তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস। এটি আমাদের জাতির জন্য এক গৌরবময় এবং স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করি আমাদের স্বাধীনতা এবং জাতি হিসেবে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি। লাখো শহীদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।”

তিনি আরও বলেন, “বিজয় দিবস আমাদের শুধু গৌরবের নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব ও শপথ গ্রহণের দিন। শপথ আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ থেকে এগিয়ে যাওয়ার।”

মুহাম্মদ ইউনূস জাতির বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “আজকের দিনে আমরা স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ করি এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। জাতির উন্নতি, সুশাসন এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করি।”

শেষে প্রধান উপদেষ্টা ‘বিজয় দিবস ২০২৪’-এর সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন।

উত্তর কোরিয়ার সেনারা প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধে অংশ নিয়েছে

 উত্তর কোরিয়ার সেনারা প্রথমবারের মতো রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধে অংশ নিয়েছে

ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার পক্ষে অংশ নিয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

গতকাল শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর হামলায় রুশ বাহিনীর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

নিজের নিয়মিত ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উত্তর কোরীয় সেনা রুশ বাহিনীর সঙ্গে সম্মিলিত ইউনিটে কাজ করছে। বর্তমানে তারা শুধুমাত্র কুরস্কের যুদ্ধক্ষেত্রে সক্রিয়, তবে তাদের অন্য জায়গায়ও ব্যবহার করা হতে পারে।”

তিনি আরও জানান, যদিও উত্তর কোরিয়ার সেনারা ইউক্রেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি, তবে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ অবস্থায় জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন কামনা করেছেন। তিনি বলেন, এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে তিনি ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

এদিকে, রুশ বাহিনীর সঙ্গে উত্তর কোরীয় সেনাদের অংশগ্রহণের খবর সম্পর্কে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি রাশিয়া। তারা এই তথ্য স্বীকার বা অস্বীকার, কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।

৭ বছর পর সমাবেশ মঞ্চে ফিরছেন খালেদা জিয়া

 ৭ বছর পর সমাবেশ মঞ্চে ফিরছেন খালেদা জিয়া

৭ বছর পর জনসমক্ষে আসছেন খালেদা জিয়া, 
শরীর ভালো থাকলে যোগ দেবেন মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ

সাত বছর পর রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচিতে সরাসরি যোগ দিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শরীর সুস্থ থাকলে আগামী ২১ ডিসেম্বর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আজিজ উলফাত গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি।"

বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদারও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর পর খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে জনসমক্ষে আসবেন।”

২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। পরে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ২০২০ সালে সরকার তার দণ্ড স্থগিত করে মুক্তি দেয়।

গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তার দণ্ড মওকুফ করেন। এরপর থেকে তিনি কিছু অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিলেও সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেননি।

আগামী ২১ ডিসেম্বরের এই সমাবেশে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি বিএনপি এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগের নতুন কর্মসূচি: নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু

 আওয়ামী লীগের নতুন কর্মসূচি:

নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু


আওয়ামী লীগ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, "আগামীকাল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তবে অতীতে উক্ত কর্মসূচিগুলো কার্যকর হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সভায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অপতৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার অভিযান জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা এবং অন্যান্য নানা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ যেকোনো সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।" সভায় আলোচনা করা হয় যে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সামনে আসন্ন ইভেন্টগুলো সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Dhaka's air quality is deemed 'very unhealthy

Dhaka's air quality is deemed 'very unhealthy,' ranking as the second worst in the world this morning.


Dhaka has been ranked second among cities worldwide with the worst air quality this morning, registering an AQI score of 259 at 8:42 AM. The air quality is classified as 'very unhealthy' according to the air quality index (AQI). 



Delhi and Kolkata, both in India, occupy the first and third positions on the list, with AQI scores of 417 and 251, respectively. 



The AQI scale categorizes air quality as follows: values between 101 and 150 are 'unhealthy for sensitive groups,' 150 to 200 is 'unhealthy,' 201 to 300 is 'very unhealthy,' and readings above 301 are considered 'hazardous,' posing serious health risks to residents.


The AQI serves as a daily reporting tool that informs the public about the cleanliness or pollution levels of a city's air and the potential health effects associated with it. In Bangladesh, the AQI is determined by five pollutants: particulate matter (PM10 and PM2.5), nitrogen dioxide (NO2), carbon monoxide (CO), sulfur dioxide (SO2), and ozone.


Dhaka has been struggling with air pollution for years, with air quality typically deteriorating in winter and improving during the monsoon season. According to the World Health Organization (WHO), air pollution is responsible for an estimated seven million deaths worldwide each year, primarily due to increased mortality from stroke, heart disease, chronic obstructive pulmonary disease, lung cancer, and acute respiratory infections.

শিশুদের জন্য সিপরোসিন সিরাপ: ব্যবহার, ডোজ ও সতর্কতা

ভূমিকা সিপরোসিন সিরাপ (Ciprosin Syrup) হল সিপ্রোফ্লক্সাসিন (Ciprofloxacin) নামক অ্যান্টিবায়োটিকের একটি তরল সংস্করণ, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক...