১৪৫ কোটি মানুষের দেশ ভারত কেন আরও সন্তান চায়?

 

১৪৫ কোটি মানুষের দেশ ভারত কেন আরও সন্তান চায়?

দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর নেতারা ইদানীং বেশি সন্তান নেওয়ার পক্ষে কথা বলছেন। একসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ‘আমরা দুই, আমাদের দুই’ (হাম দো, হামারে দো) স্লোগান দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি ছাড়িয়ে চীনকে পেছনে ফেলেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২3 সালে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে ওঠে।

কেন সন্তান নেওয়ার আহ্বান?

যেখানে ভারতের জনসংখ্যা বিপুল, সেখানে আরও সন্তান নেওয়ার আহ্বান অনেকের কাছে বিস্ময়কর। এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে প্রজনন হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

  • অন্ধ্রপ্রদেশের উদ্যোগ:
    অন্ধ্রপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনার কথা বলেছেন। তিনি এমন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন, যেখানে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকা ব্যক্তিদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া হবে।

  • তামিলনাড়ুর পদক্ষেপ:
    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন নবদম্পতিদের বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি সন্তান নেওয়াও প্রয়োজনীয় হতে পারে। যদিও এটি প্রতীকী প্রস্তাব, তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরতেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।

দক্ষিণ ভারতে প্রজনন হার হ্রাস

ভারতের জাতীয় গড় প্রজনন হার ২.১ হলেও দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে এটি এর চেয়ে অনেক কম। যেমন:

  • তামিলনাড়ু: ১.৪
  • অন্ধ্রপ্রদেশ: ১.৫
  • কর্ণাটক: ১.৬

এই হারে প্রবীণদের সংখ্যা বাড়ছে, যা আগামীতে আর্থিক ও সামাজিক কাঠামোয় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

রাজনৈতিক প্রভাব

দক্ষিণের রাজ্যগুলোর নেতাদের আরেকটি উদ্বেগ হলো আসন্ন নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস।

  • ২০২৬ সালের নির্বাচনী এলাকা পুনর্গঠনে জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এতে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলো (যেমন, উত্তর প্রদেশ, বিহার) আসন সংখ্যা বাড়াতে পারে।
  • ফলে তামিলনাড়ু, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।

আর্থসামাজিক বাস্তবতা

জনসংখ্যাবিদদের মতে, ভারতের প্রজনন হার কমার ফলে বার্ধক্যের হার দ্রুত বাড়ছে।

  • ১৯৫০ সালে নারীদের সন্তান জন্মদানের গড় হার ছিল ৫.৭, যা বর্তমানে ২-এ নেমে এসেছে।
  • দক্ষিণ ভারতের পাঁচটি রাজ্যে এই হার এখন ১.৬%, যা ইউরোপের অনেক দেশের সমান বা কম।

দ্রুত বার্ধক্যের কারণে প্রভাব:

  1. বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও পেনশন ব্যবস্থায় চাপ বাড়বে।
  2. কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর অভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।


জনসংখ্যা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে প্রজনন হার বাড়ানোর চেষ্টার পাশাপাশি বার্ধক্যজনিত সমস্যাগুলো মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

  • ভারতের ৪০% প্রবীণ এখনো দরিদ্র।
  • সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত না হলে বার্ধক্যজনিত চ্যালেঞ্জ আরও তীব্র হবে।

উন্নত দেশগুলোর মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে ভারতের অনেক রাজ্য ধনী হওয়ার আগেই বুড়ো হয়ে যাচ্ছে।

উপসংহার:
ভারতে সন্তান নেওয়ার আহ্বান শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধি নয়, বরং দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আর্থসামাজিক ভারসাম্য রক্ষার একটি প্রচেষ্টা। তবে এই উদ্যোগগুলো অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:

শিশুদের জন্য সিপরোসিন সিরাপ: ব্যবহার, ডোজ ও সতর্কতা

ভূমিকা সিপরোসিন সিরাপ (Ciprosin Syrup) হল সিপ্রোফ্লক্সাসিন (Ciprofloxacin) নামক অ্যান্টিবায়োটিকের একটি তরল সংস্করণ, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক...