অগাস্টে পালাবদলের সময় দিল্লি ও ঢাকার সেনা নেতৃত্বের যোগাযোগ ছিল

              গত ৫ই অগাস্ট ঢাকায় গণভবন অভিমুখে এগিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। পাশে জন কয়েক সেনাসদস্য

অগাস্টে পালাবদলের সময়

দিল্লি  ঢাকার সেনা নেতৃত্বের যোগাযোগ ছিল

গত অগাস্ট মাসে বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের সময় ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের মধ্যে 'সার্বক্ষণিক যোগাযোগ' ছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল দ্বিবেদী। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রক্রিয়া দুই দেশের সেনা নেতৃত্বের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে

আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দিল্লিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা জানান



সেনাপ্রধানের মন্তব্য

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পালাবদলের সময় আমি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলাম। গত ২০শে নভেম্বরও আমাদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স হয়েছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবেই চলছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতা থেকে অপসারিত হয়ে দেশত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশের একটি সামরিক বিমানে চড়ে ভারতের হিন্ডন এয়ারবেসে অবতরণ করেন। তখন থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন, তবে তার সঠিক স্ট্যাটাস এখনও ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করেনি

পালাবদল সমন্বয়

শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানের জন্য ভারতের কাছে ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জেনারেল দ্বিবেদীর মন্তব্যে এই প্রক্রিয়াটি দুই দেশের সেনা নেতৃত্বের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বাংলাদেশের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০২৪ সালের ২৩শে জুন। অন্যদিকে, জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ভারতের সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন ৩০শে জুন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুই সেনাপ্রধান ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন

সামরিক সহযোগিতা

জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, “বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বলেছেন ভারত তাদের জন্য স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে বাংলাদেশও আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে এবং একে অপরকে বুঝতে হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিত করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা পুনরায় আয়োজন করা হবে

সম্পর্কের ভবিষ্যৎ

দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকলেও জেনারেল দ্বিবেদী মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত সম্পর্ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না।

ভারতে অনেকেই মনে করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি অস্পষ্ট। তাই বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত দিল্লির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সীমিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা

জেনারেল দ্বিবেদীর বক্তব্যে এটাও পরিষ্কার, বাংলাদেশে নির্বাচন সম্পন্ন হলে তবেই দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় সহজ স্বাভাবিক হবে


ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশ ভারতের একটি যৌথ সামরিক অনুশীলনের দৃশ্য

Referance: BBC Bangla

 

কোন মন্তব্য নেই:

শিশুদের জন্য সিপরোসিন সিরাপ: ব্যবহার, ডোজ ও সতর্কতা

ভূমিকা সিপরোসিন সিরাপ (Ciprosin Syrup) হল সিপ্রোফ্লক্সাসিন (Ciprofloxacin) নামক অ্যান্টিবায়োটিকের একটি তরল সংস্করণ, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক...