বাংলাদেশে ভাইরাল ৩ হাজারের বেশি একক ভুল তথ্য যাচাইয়ের প্রতিবেদনকে চিহ্নিত করেছে ডিসমিসল্যাবছবি: রয়টার্স
প্রধান উপদেষ্টা, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য: ডিসমিসল্যাব
গত বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ঘিরেই এসব ভুল তথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছে ডিসমিসল্যাব।
তথ্য প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইট পরিচালিত ডিসমিসল্যাব তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ভুল তথ্যের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তথ্য যাচাইকারী আটটি সংস্থার সাহায্যে ২০২৪ সালে মোট ৪,৫০০-এর বেশি ভুয়া তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩,০০০-এর বেশি তথ্যকে ভাইরাল ভুল তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৫৮ শতাংশ বেশি।
প্রধান বিষয়: রাজনৈতিক ভুল তথ্যের আধিক্য
২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে রাজনীতিকে ঘিরে (৩২.৬%)। জাতীয় নির্বাচন, আন্দোলন, এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতন সংক্রান্ত ঘটনাগুলো এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
- ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে ঘিরে সর্বাধিক ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।
- আওয়ামী লীগ, বিএনপি, সেনাবাহিনী ও পুলিশকে নিয়েও বিভিন্ন ভুয়া তথ্য প্রচারিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওর মাধ্যমে ৩৯ শতাংশ, ছবির মাধ্যমে ২৮ শতাংশ এবং গ্রাফিক কার্ডের মাধ্যমে ১৪ শতাংশ ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।
- জুলাই ও আগস্ট: সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ায়।
- জুলাইয়ের শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং এতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
- একই সময় বন্যা সম্পর্কিত বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়ায়।
ধর্মীয় ভুল তথ্য ১২.৬ শতাংশ ছিল। এর মধ্যে সংখ্যালঘু নিপীড়ন, ইসলামী চরমপন্থা বৃদ্ধি এবং হিন্দুদের ওপর হামলার মিথ্যা দাবি প্রাধান্য পায়।
- আগস্টের পর ধর্মীয় অপপ্রচার ঘৃণা ও বিভেদ সৃষ্টির পেছনে ভূমিকা রাখে।
- আন্তর্জাতিকভাবে ভারত, ফিলিস্তিন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তান সম্পর্কিত ভুল তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও জুন মাসে তুলনামূলক কম রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় ভুল তথ্য ছড়ালেও খেলাধুলা নিয়ে ভুয়া তথ্য বেড়েছিল।
- বিপিএল, আইপিএল এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা হয়। তারকা ক্রিকেটারদের নামে মিথ্যা বিবৃতি এবং জুয়ার প্রচারে তাদের ছবি ব্যবহার করা হয়।
আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিয়ে ভুল তথ্য সবচেয়ে বেশি প্রচারিত হয়।
- আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার গুজব ছড়ায়।
- আওয়ামী লীগের পতনের পর পুরোনো ছবি ও ভিডিও নতুন বলে প্রচারিত হয়।
- ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর সংগঠনটির পক্ষে ও বিপক্ষে ভুয়া তথ্য ছড়ায়।
ডিসমিসল্যাবের প্রতিবেদনে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ এবং এর সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন