(বাঁ দিকে) শেখ হাসিনা। মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর সুপারিশ: সংবিধান সংস্কারে নতুন দিশা
বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে একটি বিশেষ কমিশন। সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধানমন্ত্রীর কিছু ক্ষমতা হ্রাস করার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রস্তাবনা
সংবিধান সংস্কারের এই উদ্যোগ এসেছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, কমিশন মনে করে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি। তবে কীভাবে এই ভারসাম্য আনা হবে, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা সীমিত করা হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রপতি অনেক ক্ষেত্রেই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। প্রস্তাবিত সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে কিছু সাংবিধানিক পদে নিয়োগ দিতে পারবেন এবং জরুরি অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য জাতীয় আলোচনা
প্রথম আলো-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল সংবিধানের এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে। আগামী মাসে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলে জানা গেছে।
জরুরি অবস্থার ক্ষমতা পুনর্বিন্যাস
বর্তমানে জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। তবে কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়াতে একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নির্ধারণে নতুন দিশা
কমিশন আরও প্রস্তাব করেছে, প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা কেউ দলের প্রধান বা সংসদীয় দলের নেতা হতে পারবেন না। এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমে আসবে এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বৃদ্ধি পাবে।
কমিশনের লক্ষ্য
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলি রিয়াজ জানিয়েছেন, তাঁদের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য স্থাপন করা। কমিশন তাদের সুপারিশে এ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে।
এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন