কেমন আছেন মিস?
রোদ্দুর কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছে শুভ। চারপাশে চেনা পরিবেশ, চেনা মুখ, অথচ কোথাও যেন একটা অচেনা অনুভূতি। পাঁচ বছর পর সে আবার এই কলেজে এসেছে, ঠিক সেই জায়গাটিতে যেখানে একদিন নিয়মিত আসা-যাওয়া করত।
একটা সময় এখানে পড়ত সে, তখন প্রতিদিনই ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, মাঠে ফুটবল খেলা আর ক্যাম্পাসে অবাধ বিচরণ ছিল জীবনের আনন্দ। কিন্তু আজ শুভ এসেছে অন্য কারণে—সে এসেছে তার প্রিয় শিক্ষিকা রুবাইয়া মিসের খোঁজ নিতে।
কলেজে ঢুকে অফিস রুমে গিয়ে জানতে পারল, রুবাইয়া মিস এখনো এই কলেজেই পড়ান। মনটা হঠাৎ করে আনন্দে ভরে উঠল, কিন্তু সাথে একটু নার্ভাসও লাগছে। মিস কি তাকে মনে রেখেছেন? এত বছর পর দেখা হলে তিনি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন?
শুভ ধীরে ধীরে শিক্ষকদের লাউঞ্জের দিকে এগিয়ে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে, মিস একমনে কিছু কাগজপত্র দেখছেন। একটু ইতস্তত করে সে কাশি দিলো।
মিস মাথা তুলে তাকালেন। কয়েক সেকেন্ড শুভর দিকে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ মুচকি হাসলেন। “শুভ! তুমি? এত দিন পর?”
শুভ লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকে বলল, “জি মিস, অনেক দিন পর আসা হলো। আপনি কেমন আছেন?”
রুবাইয়া মিস চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখে এক অদ্ভুত উজ্জ্বলতা। “আমি ভালো আছি, কিন্তু তুমি তো হঠাৎ হারিয়ে গেলে! কোথায় ছিলে এত দিন?”
শুভ একটু চুপ করে থাকল। তারপর বলল, “জীবন গুছিয়ে নিতে গিয়ে একটু ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম, মিস। কিন্তু আমি কখনোই আপনাকে ভুলিনি।”
রুবাইয়া মিস হাসলেন। “শুধু আমি না, তোমার বন্ধুরাও তো তোমার কথা জিজ্ঞেস করত। সবাই ভেবেছিল তুমি দেশের বাইরে চলে গেছ।”
শুভ হেসে বলল, “না, মিস, আমি দেশেই ছিলাম। শুধু নিজের জন্য একটা ভালো জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছিলাম। আজ সেই পথ কিছুটা সহজ হয়েছে, তাই মনে হলো, আপনার সাথে দেখা করাটা দরকার।”
মিস চেয়ার থেকে উঠে এসে পাশে দাঁড়ালেন। “শুভ, একজন শিক্ষক হিসেবে আমি সবসময় চাই যে আমার ছাত্ররা জীবনে সফল হোক, কিন্তু তারা যেন কখনো ভুলে না যায় কে তাদের প্রথম অনুপ্রেরণা ছিল। আমি খুব খুশি হয়েছি যে তুমি আমাকে মনে রেখেছ।”
শুভ মাথা নিচু করে মৃদু হেসে বলল, “আপনার শিক্ষাগুলোই আমাকে আজ এখানে নিয়ে এসেছে, মিস। ধন্যবাদ সবকিছুর জন্য।”
মিসের চোখে পানি চলে এল, কিন্তু তিনি চশমার ফ্রেমটা ঠিক করে শক্ত গলায় বললেন, “শুভ, তোমার মতো ছাত্ররা আমাদের গর্ব। কখনো হাল ছেয়ো না।”
বাইরে তখন বিকেলের রোদ পড়ছে। শুভ আর রুবাইয়া মিস দাঁড়িয়ে আছেন একসাথে, পুরোনো দিনের কথা মনে করে। সময় অনেক বদলেছে, কিন্তু শিক্ষক-ছাত্রের এই সম্পর্কটা ঠিক আগের মতোই থেকে গেছে—শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর স্মৃতির বন্ধনে বাঁধা।
.jpeg)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন