ছোট ফাইব্রয়েড এবং জরায়ু থেকে রক্তপাত
ফাইব্রয়েড (Fibroids) হল জরায়ুর পেশির মধ্যে বা এর আশেপাশে গঠিত অস্বাভাবিক টিউমার, যা সাধারণত অ-ক্যান্সারজনিত। এগুলোকে লিওমায়োমা (Leiomyoma) বা মায়োমা (Myoma) ও বলা হয়। সাধারণত নারীদের প্রজননক্ষম বয়সে (১৫-৫০ বছর) এটি বেশি দেখা যায়।
ছোট ফাইব্রয়েড কী?
ফাইব্রয়েডের আকার বিভিন্ন হতে পারে। ৫ সেমি বা তার কম ব্যাসযুক্ত ফাইব্রয়েডকে ছোট ফাইব্রয়েড বলা হয়। ছোট ফাইব্রয়েড অনেক সময় তেমন কোনো লক্ষণ সৃষ্টি করে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি জরায়ুর গঠনে পরিবর্তন এনে নানা উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, যার মধ্যে একটি হল অনিয়মিত রক্তপাত।
ছোট ফাইব্রয়েড এবং জরায়ু থেকে রক্তপাত
ছোট ফাইব্রয়েড হলে জরায়ু থেকে রক্তপাত হওয়া সম্ভব, তবে এটি নির্ভর করে ফাইব্রয়েডের অবস্থান, সংখ্যা এবং জরায়ুর সঙ্গে এর সম্পর্কের উপর। নিচে কিছু কারণ দেওয়া হল যেগুলোর জন্য ছোট ফাইব্রয়েড থাকলে রক্তপাত হতে পারে—
১. এন্ডোমেট্রিয়াল স্তরে চাপ সৃষ্টি
যদি ফাইব্রয়েড জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আস্তরণ (Endometrial lining)-এর কাছাকাছি বা এর মধ্যে বৃদ্ধি পায়, তাহলে এটি জরায়ুর স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঋতুস্রাবের সময় বেশি রক্তপাত হতে পারে বা অনিয়মিত রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে।
২. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
ফাইব্রয়েডের বৃদ্ধি এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ওপর নির্ভর করে। যদি ফাইব্রয়েডের কারণে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তবে তা জরায়ুর আস্তরণকে বেশি পুরু করতে পারে, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী ঋতুস্রাব হতে পারে।
৩. জরায়ুর সংকোচন প্রভাবিত হওয়া
ফাইব্রয়েড জরায়ুর পেশিকে দুর্বল করে দিতে পারে, ফলে জরায়ু স্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হতে পারে না। এতে ঋতুস্রাবের সময় রক্তপাত বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
৪. ছোট ছোট রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়া
ফাইব্রয়েডের উপস্থিতির কারণে জরায়ুর ছোট ছোট রক্তনালী সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা অনিয়মিত রক্তপাতের কারণ হতে পারে।
৫. সাবমিউকোসাল ফাইব্রয়েডের কারণে রক্তপাত
যদি ফাইব্রয়েড জরায়ুর ভেতরের আস্তরণে (Submucosal fibroid) থাকে, তবে এটি সবচেয়ে বেশি রক্তপাত ঘটাতে পারে। কারণ এটি সরাসরি জরায়ুর রক্তনালীগুলোর উপর প্রভাব ফেলে।
ফাইব্রয়েডের কারণে রক্তপাতের অন্যান্য লক্ষণ
- ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত (Menorrhagia)
- ঋতুস্রাবের সময় বেশি দিন রক্তপাত চলা
- ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সময়ে অনিয়মিত রক্তক্ষরণ
- সহবাসের পর রক্তপাত
- কোমরের নিচে ব্যথা বা ভারী অনুভূতি
ফাইব্রয়েডের কারণে যদি অতিরিক্ত রক্তপাত হয়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। চিকিৎসার ধরন নির্ভর করে ফাইব্রয়েডের আকার, সংখ্যা, এবং উপসর্গের তীব্রতার উপর। কিছু সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি হল—
- ঔষধ – হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ (যেমন গনাডোট্রপিন-রিলিজিং হরমোন এনার্জিস্ট) ব্যবহার করা হয়।
- নন-হরমোনাল থেরাপি – আয়রন সাপ্লিমেন্ট এবং রক্ত বন্ধ করার ওষুধ (Tranexamic acid) দেওয়া হতে পারে।
- সার্জারি – যদি ফাইব্রয়েড বড় হয়ে যায় বা রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে মায়োমেকটমি (Myomectomy) বা জরায়ু অপসারণ (Hysterectomy) করা যেতে পারে।
- মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি – ইউটেরাইন আর্টারি এম্বোলাইজেশন (Uterine Artery Embolization) ও হাই-ইনটেনসিটি ফোকাসড আলট্রাসাউন্ড (HIFU) ব্যবহার করা হয়।
ছোট ফাইব্রয়েড থাকলে জরায়ু থেকে রক্তপাত হতে পারে, বিশেষ করে যদি এটি জরায়ুর অভ্যন্তরীণ স্তরে থাকে বা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে, সব ক্ষেত্রেই এটি রক্তপাত সৃষ্টি করবে এমন নয়। যেকোনো অনিয়মিত রক্তপাত বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন