নতুন মা হওয়া নারীদের মধ্যে অনেক সময় বুকের দুধ কম হওয়ার সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট খাবার ও পদ্ধতি অনুসরণ করলে বুকের দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই লেখায় আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব—কোন খাবার ও কৌশল অনুসরণ করলে মায়ের বুকের দুধ বাড়তে পারে।
মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায় ও করণীয়
১. পর্যাপ্ত পানি পান করা
বুকের দুধ মূলত পানি ও পুষ্টি উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান না করলে দুধের পরিমাণ কমে যেতে পারে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। এছাড়া স্যুপ, দুধ, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদিও পান করা যেতে পারে।
২. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর পর্যাপ্ত দুধ তৈরি করতে সক্ষম হয়। নিচে কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যা বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে—
(ক) দানাশস্য ও শস্যজাতীয় খাবার
- ওটস, ব্রাউন রাইস, যব, গম
- গোটা গমের রুটি বা চাপাটি
- বার্লি বা যবের পানীয়
(খ) শাকসবজি ও ফলমূল
- পুঁইশাক, পালংশাক, মিষ্টি কুমড়া
- গাজর, বিট, শালগম
- পেঁপে, কলা, আপেল
- ডুমুর ও খেজুর
(গ) প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার
- ডিম, মুরগি, গরুর মাংস
- মাছ (বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ)
- ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার (দই, ছানা, পনির)
(ঘ) বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার
- কাঠবাদাম, আখরোট, কাজুবাদাম
- তিল ও সূর্যমুখী বীজ
- মিষ্টি মৌরি ও ফেনুগ্রিক বীজ
৩. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ কমানো
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে প্রোল্যাকটিন ও অক্সিটোসিন হরমোনের উৎপাদন কমে যায়, যা দুধের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
৪. শিশুকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ানো
শিশুকে যত বেশি স্তন্যপান করানো হবে, তত বেশি বুকের দুধ তৈরি হবে। এতে দুধ উৎপাদনের হরমোন সক্রিয় হয়।
৫. বুকের দুধ বাড়ানোর হারবাল উপাদান
- মেথি বীজ ও মেথি চা
- মৌরি ও মৌরির চা
- আদা ও রসুন
- তুলসী পাতা
৬. নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা
নিয়মিত ইয়োগা ও হালকা ব্যায়াম করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং দুধ উৎপাদনের হরমোন সক্রিয় হয়।
৭. সঠিকভাবে শিশুকে স্তন্যপান করানো
সঠিকভাবে খাওয়ালে দুধের প্রবাহ বাড়ে। শিশুর মুখের অবস্থান, জিহ্বার ব্যবহার ও মায়ের বসার ভঙ্গি ঠিক রাখতে হবে।
উপসংহার
বুকের দুধ কম হলে ঘাবড়ে না গিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার, প্রচুর পানি ও শিশুকে বারবার স্তন্যপান করানো—এই তিনটি প্রধান বিষয় মেনে চললে বুকের দুধের পরিমাণ বাড়বে। এছাড়া মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন