যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত ২০১৭ সালের ১ জুন। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হয়েই দ্বিতীয় দফায় এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করলেন তিনি
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ:
বাইডেনের নীতি বদল ও ‘ডিপ স্টেটকে’ আক্রমণ
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। প্রায় অর্ধশত আদেশের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার দৃঢ় প্রয়োগে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এসব আদেশে অভিবাসন, পরিবেশ ও বৈচিত্র্য সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিগুলো বদলের অভিপ্রায় স্পষ্ট।
ট্রাম্পের এই আদেশগুলো মূলত বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নীতির বিপরীতমুখী। অভ্যন্তরীণ নীতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও অভিবাসন ইস্যুতে বড় ধরনের পরিবর্তনের চেষ্টা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান, শরণার্থী ও অভিবাসন নীতি বদলানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সোমবার শপথ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় এক ভাষণে ট্রাম্প জানান, তিনি বাইডেন প্রশাসনের ৮০টিরও বেশি "ক্ষতিকর এবং চরমপন্থী নির্বাহী পদক্ষেপ" বাতিল করছেন।
বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আদেশ
ট্রাম্পের বাতিল করা বাইডেনের নীতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- কেন্দ্রীয় শরণার্থী কর্মসূচির নবায়ন।
- ধাপে ধাপে ব্যক্তিমালিকানাধীন কারাগারের ব্যবহার বন্ধ।
আদালতে চ্যালেঞ্জ ও প্রতীকী গুরুত্ব
ট্রাম্পের অনেক আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে এবং কিছু প্রতীকী হিসেবেই থাকবে। তবে তাঁর পদক্ষেপগুলো বাইডেন প্রশাসনের নীতির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ ব্যবস্থা ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা এই নির্বাহী আদেশগুলোর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য আদেশগুলো
কেন্দ্রীয় সরকারের জনবল
- সামরিক বাহিনী ও অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন ছাড়া অন্যান্য বিভাগে কর্মী নিয়োগ বন্ধ।
- কেন্দ্রীয় বিধিবিধানের কার্যকারিতা স্থগিত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপব্যবহার পর্যালোচনা।
- কর্মক্ষেত্রে দূরবর্তী কাজ বন্ধ করে সরকারি কর্মীদের অফিসে কাজ করার নির্দেশ।
অভিবাসন ও সীমান্ত নীতি
- দক্ষিণ সীমান্তে আশ্রয়ের আবেদন বন্ধ।
- জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ।
- মাদক চক্রগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা।
জেন্ডার ও বৈচিত্র্য নীতি
- কেন্দ্রীয় সরকারের বৈচিত্র্য, ন্যায্যতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক (ডিইআই) কর্মসূচি বাতিল।
- ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের সুরক্ষা প্রত্যাহার।
জ্বালানি ও পরিবেশ
- প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার।
- খনিজ অনুসন্ধানের নিষেধাজ্ঞা বাতিল।
টিকটক নিষিদ্ধ
চীনা মালিকানাধীন টিকটক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনে ট্রাম্প বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি নির্বাচনের সময় তাঁর ভিডিও প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এই নির্বাহী আদেশগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্য ও নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তবে সেগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
.png)
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন