যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওছবি: রয়টার্স
ফাঁস হওয়া নথির তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত
ইসরায়েল ও মিসরের সামরিক সহায়তা বহাল, বাকিগুলো স্থগিত
বিশ্বের সর্ববৃহৎ দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রায় সব বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং ইসরায়েল ও মিসরের সামরিক সহায়তা এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকবে।
গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেয়। ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি অভ্যন্তরীণ নথি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করেন। এতে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে বৈদেশিক সহায়তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
ফাঁস হওয়া নথি অনুযায়ী, “প্রতিটি নতুন এবং বিদ্যমান সহায়তা প্রকল্প সম্পূর্ণরূপে পর্যালোচনা ও অনুমোদনের আগে কোনো ধরনের তহবিল বরাদ্দ করা যাবে না।” এই নির্দেশনার ফলে উন্নয়ন সহায়তা থেকে সামরিক সহায়তা পর্যন্ত সবক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউক্রেনসহ অন্যান্য দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে
নতুন নির্দেশনার কারণে ইউক্রেনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছিল।
এইডস ত্রাণ কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হবে
এই নথি থেকে জানা যায়, প্রেসিডেন্টের জরুরি এইডস ত্রাণ কর্মসূচি (পিইপিএফএআর)-এর তহবিলও স্থগিত হতে পারে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এইডসের চিকিৎসায় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ২০০৩ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ কর্তৃক চালু হওয়া এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।
ইসরায়েল ও মিসরের সামরিক সহায়তা বহাল
এ নির্দেশনার আওতার বাইরে থাকবে ইসরায়েল ও মিসরের সামরিক সহায়তা। গাজাযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অস্ত্র সহায়তা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তির পর থেকে মিসর প্রতিরক্ষা তহবিল পেয়ে আসছে।
জরুরি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে
যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি খাদ্য সহায়তাও এই নির্দেশনার বাইরে রয়েছে। সুদান, সিরিয়া এবং অন্যান্য সংকটাপন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে।
ডেমোক্রেটিকদের প্রতিক্রিয়া
ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন, পিইপিএফএআর কর্মসূচির অধীনে ওষুধ সহায়তার ওপর ২ কোটির বেশি মানুষ নির্ভরশীল। এছাড়া ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
পর্যালোচনার সময়সীমা
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৮৫ দিনের মধ্যে সব বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (OECD) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৩ সালে বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছে।
অক্সফামের প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তার দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা থেকে সরে এসেছে। অক্সফামের যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট অ্যাবি ম্যাক্সম্যান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের মাত্র এক শতাংশ মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তায় ব্যয় হয়, যা মানুষের জীবন বাঁচায়, রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, লাখো শিশুকে শিক্ষার সুযোগ দেয় এবং দারিদ্র্য হ্রাস করে।”
তিনি আরও বলেন, এই সহায়তা প্রকল্প স্থগিত বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত অসংখ্য শিশু ও পরিবারের জন্য জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন