![]() |
m
সরকার ছেড়ে দিতে প্রস্তুত: নাহিদ ইসলাম
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “যদি দল গঠন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হয়, তবে সরকার ছেড়ে দেব।”
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে আমরা নিরপেক্ষ মনে করছি। বিএনপি কেন এমনটা মনে করছে না, তা তাদের স্পষ্ট করা উচিত। যদি তাদের নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তা প্রকাশ্যে বলা উচিত। সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে যে পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা বিবেচনা করা হবে।”
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। একই সময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সাক্ষাৎকারে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “যদি বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ থাকতে না পারে, তবে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে।”
তীব্র প্রতিক্রিয়া
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর, সরকারের অপর দুই তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রশাসন এবং সাংবিধানিক পদে বিএনপি সমর্থকদের অবস্থানকেও নিরপেক্ষতার আলোকে বিবেচনা করা উচিত। তবে এই মুহূর্তে এ নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি।”
তিনি আরও বলেন, “এক-এগারো এবং মাইনাস টুর প্রসঙ্গটি বিএনপিই প্রথম সামনে এনেছে। তারা মনে করে বর্তমান সরকার কেবল একটি নির্বাচন দেওয়ার জন্য ক্ষমতায় এসেছে। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা।”
গণ-অভ্যুত্থানের সরকার
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, “বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব নিয়েছে। তাদের কাজ হলো বিচার, সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন, “ছাত্ররা সরকারের অংশ হয়ে ওয়াচডগের ভূমিকা পালন করছে, যাতে গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়।”
বিচার ও রিকনসিলিয়েশন প্রসঙ্গ
আওয়ামী লীগের বিষয়ে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের যারা গুম, খুন, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিতে জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তবে যারা এ ধরনের অপরাধে সরাসরি যুক্ত নয়, তাদের রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করা হবে।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ নামে রাজনীতি করার আর কোনো অধিকার নেই। যদি এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়, তবে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে আদালত বা নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।”
সরকার ছাড়ার প্রতিশ্রুতি
নাহিদ ইসলাম বলেন, “যদি ছাত্র উপদেষ্টারা কোনো রাজনৈতিক দল গঠনে অংশগ্রহণ করতে চান, তাহলে তারা আর সরকারের অংশ থাকবেন না। বাইরে ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করছে, তবে আমরা সেই প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত নই। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি তাদের নিজস্ব কার্যক্রম চালাচ্ছে। আমরা কোনো দলে যুক্ত হতে চাইলে আগে সরকার ছেড়ে দেব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ছাত্র উপদেষ্টারা বাইরের রাজনীতির সঙ্গে যথাযথ দূরত্ব বজায় রেখেই কাজ করছে।”
সূত্র: বিবিসি বাংলা
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন