সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পযটকবাহী জাহাজ ভিড়লেই প্রপেলারের ঘূর্ণিপাকে তলদেশের বালু ওঠে এসে নীলজলের স্বচ্ছ পানি ঘোলাটে হয়ে যায়। সম্প্রতি তোলা
সেন্ট মার্টিনে পর্যটক যাতায়াত বন্ধ: পরবর্তী করণীয়
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে আগামীকাল শনিবার থেকে পর্যটক যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে দ্বীপের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় দ্বীপ সংরক্ষণে মাসব্যাপী কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বীপকে বিভিন্ন সেক্টরে বিভক্ত করে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালনা, বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির উৎপাদন ও সরবরাহ, এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা। এছাড়া, স্থানীয় জনগণকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গত দুই মাসে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। তবে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনে গিয়ে ফিরে আসতে বলা হলেও, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে প্রতিদিন দুই হাজার পর্যটককে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, দ্বীপ সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণের আগে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের মতামত নেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, দ্বীপে ২৩০টি অবৈধ হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট তৈরি হয়েছে, যা দ্বীপের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
সরকারি সিদ্ধান্তে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে সময়সীমা ও পর্যটকের সংখ্যা সীমিত করায় রক্ষা পাচ্ছে প্যারাবনসহ জীববৈচিত্র্য। দ্বীপের দিয়ারমাথা সৈকতে। সম্প্রতি তোলা
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা বলেন, অতিরিক্ত পর্যটকের কারণে দ্বীপের সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছিল। পর্যটকবাহী জাহাজের শক্তিশালী পাখার ঘূর্ণি সমুদ্রতলের বালু তুলে এনে পানিকে ঘোলাটে করত, যার ফলে প্রবাল-শৈবাল ধ্বংস হতো।
পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন যে, পর্যটন নিষেধাজ্ঞার সময় যেন কোনো অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা না হয়। অতীতে দেখা গেছে, জুন-আগস্ট মাসে প্রশাসনের নজরদারি কম থাকার সুযোগে অবৈধ হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণের প্রবণতা বাড়ে। এবার এই বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সেন্ট মার্টিন টমটম মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হামিদ হোসেন বলেন, দ্বীপে বর্তমানে চার শতাধিক টমটম রয়েছে, যা পর্যটকদের পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয়। নিষেধাজ্ঞার ফলে এই ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
সেন্ট মার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মৌলভি আবদুর রহিম জিহাদী বলেন, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটন খাতে লাভজনক ব্যবসা হয়নি, ৭০ শতাংশ হোটেল-রিসোর্ট খালি ছিল। বর্তমানে দ্বীপের ২৩০টি হোটেল রয়েছে, যার অধিকাংশই এই নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্ষতির মুখে পড়বে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকে ময়লা–আবর্জনা। দ্বীপের পূর্বপাশের জেটিঘাটে। সম্প্রতি তোলা
.png)
.png)
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন