যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডানে) ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির হায়দরাবাদের হাউসে, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ফাইল ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্প-মোদির বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে এই বৈঠক হতে পারে বলে ভারতীয় দুটি সূত্র জানিয়েছে।
চীনকে ঠেকানোর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারতের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। একইসঙ্গে, নয়াদিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে আগ্রহী। সম্ভাব্য এই বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
তবে বৈঠক ফেব্রুয়ারিতে নিশ্চিত হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। এ বছরের শেষে ভারতে কোয়াডের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের সময় মোদি ও ট্রাম্পের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার (২০ জানুয়ারি) দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ট্রাম্পের প্রশাসনে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের শঙ্কা বাড়ছে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ভারত উচ্চ শুল্ক আরোপ করে। তবে ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনকে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এবং মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রণোদনা দিতে আগ্রহী।
ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর করেছিলেন। আহমেদাবাদে মোদির উপস্থিতিতে এক লাখের বেশি মানুষ তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১৯ সালে হিউস্টনের ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানে দুই নেতা একসঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকে প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং অভিবাসন নীতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
অভিবাসনের বিষয়ে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন রোধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন, তবে দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে উদারনীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক পেশাদার কর্মী এইচ-ওয়ান বি ভিসার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করেন।
এদিকে, ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর উপস্থিত ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন