হতাশা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে
► দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে দেশের শিল্প কারখানা
ব্যবসায়ীদের হতাশা: শিল্প ও অর্থনীতির টিকে থাকার সংকট
১২ জানুয়ারি ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের অসহায়ত্ব এবং ক্রমবর্ধমান হতাশার কথা তুলে ধরেন। তারা জানিয়েছেন, সরকারের সহায়তা ছাড়া অনেকের জন্য ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন বিসিআই-এর সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, “আমরা গভর্নরকে জানিয়েছি, সম্মানের সঙ্গে এক্সিট দেওয়ার জন্য একটি নীতি প্রয়োজন। উৎপাদন খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে, যা অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ঋণের উচ্চ সুদহার (১৫ শতাংশের বেশি), এবং বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি তাদের টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ বাড়াচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নির্দেশনায় বিভিন্ন পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধিও পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলেছে।
বিসিআই সভাপতি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতির প্রভাব শিল্প খাতে দেখা যাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ স্থগিত থাকায় সিমেন্টসহ অন্যান্য শিল্প খাত অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে।
ব্যবসায়ীরা এ সংকট থেকে উত্তরণে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করছেন, যেখানে জ্বালানি, ব্যাংক, কর ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা এবং শ্রমিক ইস্যু নিয়ে সুপারিশ থাকবে। বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি আবদুল্লাহ হিল রাকিবও সরকারের নীতি সহায়তার অভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ না করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা টেকসই নয়। ব্যবসায়ীদের সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়বে।”
সরকারের উচিত শিল্প ও উৎপাদন খাতকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে এবং কর্মসংস্থান সুরক্ষিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন