পররাষ্ট্র উপদেষ্টার চীন সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কৌতূহল
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশে বিভিন্নবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। সরকারের ধরন পরিবর্তন সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনোই সমস্যার মুখে পড়েনি। প্রতিটি সরকারই চীনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে।
বুধবার চায়না মিডিয়া গ্রুপ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। বেইজিং থেকে সাংহাই যাওয়ার পথে এই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তার সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিশেষ কৌতূহল রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে মো. তৌহিদ হোসেন ২০ জানুয়ারি থেকে চীন সফর করছেন। ২১ জানুয়ারি তিনি বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ, এবং রাজনৈতিক কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের সরকার অন্তর্বর্তীকালীন। এতে হয়তো কিছু দ্বিধা ছিল যে এই সময়ে বিনিয়োগ বা চুক্তি কতটা লাভজনক বা টেকসই হবে। আমার মনে হয়, এই সফরের মাধ্যমে সে দ্বিধাগুলো দূর করা গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক কোনো বিশেষ সরকার বা দলের ওপর নির্ভর করে না। ১৯৭৫ সালে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর আমরা এ বছর সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী পালন করছি। বিভিন্ন সরকার পরিবর্তন হলেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা অটুট রয়েছে।”
তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন, “চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হবে, পরবর্তী সরকারও তা অনুসরণ করবে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এই সফর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কৌতূহলের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েন। ঢাকায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন এবং এই অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই সফর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ঢাকা, দিল্লি ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, চীন সফরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত অনানুষ্ঠানিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করেছে। তারা জানতে চেয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ হতে পারে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়তে পারে।
বিশেষ করে ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ঢাকার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়া ঠেকাতে উদ্যোগী হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব কমাতে সচেষ্ট এবং ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের মাধ্যমে এই অঞ্চলকে স্থিতিশীল রাখতে চাচ্ছে।
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন