নিয়মিত করদাতাদের ‘জবাই’ করবেন না, সরকারের খরচ কমান—নাসিম মঞ্জুর
অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেছেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আগে সরকারের ব্যয়সংকোচন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা যদি সব সময় আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করি এবং একই জনগোষ্ঠীর ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেই, তাহলে এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।”
আজ বুধবার প্রথম আলো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লেনদেনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা: পরিপ্রেক্ষিত ভ্যাট বৃদ্ধি’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন।
মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ডিরেক্টর সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল ডিজিটাল লেনদেনের বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে হলে আগামী ২০-২৫ বছরে উৎপাদনশিল্পের বিকাশে মনোযোগ দিতে হবে। বিশ্বব্যাপী উৎপাদন খাতের ২৮ শতাংশ এখনো চীনের নিয়ন্ত্রণে। ফলে কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে উৎপাদনশীল শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের দেশে কারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং বিনিয়োগ সরে যাচ্ছে।”
তিনি একটি বাস্তব উদাহরণ টেনে বলেন, “আমরা এ বছর তাইওয়ানের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে একটি নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু তারা নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে সেটি বাংলাদেশে না করে ইন্দোনেশিয়ায় সরিয়ে নিচ্ছে। তাদের মতে, বাংলাদেশে উৎপাদন ব্যয়ের পূর্বানুমান করা কঠিন, যা বিনিয়োগের জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা।”
তিনি আরও বলেন, “দেশে ব্যবসার খরচ বেড়েছে, যা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া কীভাবে ব্যবসার খরচ কমিয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করে আমাদেরও উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।”
নাসিম মঞ্জুর আরও উল্লেখ করেন যে, “প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৫ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার হুন্ডির মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। বিদেশি চিকিৎসাসেবা ও অন্যান্য খাতে প্রচুর অর্থ দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এসব লেনদেনকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা জরুরি। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যার একটি সমাধান হতে পারে ইনস্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করা।”
তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “ভারতের অ্যামাজন গ্লোবাল সেলিং প্রোগ্রাম সফলভাবে পাঁচ বছরে দেড় লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এনেছে, যা তাদের রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে হলে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করতে হবে।”
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন