যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পফাইল ছবি: এপি
ট্রাম্প প্রথম নন, যুক্তরাষ্ট্র ৭৯ বছর আগেও গ্রিনল্যান্ড কিনতে চেয়েছিল
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড, যার আয়তন প্রায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৫৭ হাজার। এটি ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। প্রাকৃতিক সম্পদ, বিশেষত খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যের জন্য গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিপণ্য তৈরিতে এসব খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, আর্কটিক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্য পথগুলোর পাশেই এর অবস্থান।
সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এমনকি প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করতেও তিনি প্রস্তুত ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প বেশ কিছুবার আলোচনা শুরু করেন। তবে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন কিছু নয়।
১৯৪৬ সালেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দেয়। তবে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমান সময়ে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিতে এগেদে ১৩ জানুয়ারি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও খনিজ সম্পদ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে তারা কাজ করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড স্বাধীনতা চায়। এটি বিক্রির জন্য নয়।”
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মিতে ফ্রেডেরিকসেন ১৬ জানুয়ারি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে স্পষ্ট করে বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার এর বাসিন্দাদের। গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।”
একুশ শতকের বিশ্বে কোনো বিদেশি ভূখণ্ড কিনে নেওয়া বা বলপ্রয়োগে দখল করা অপ্রত্যাশিত এবং অগ্রহণযোগ্য। যদিও ট্রাম্পের এ উদ্যোগ অনেকের কাছে আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে, তবে এটি তাঁর আরও কিছু বিতর্কিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি একবার তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলেছিলেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রতি ট্রাম্পের আকর্ষণ নিছক আবাসন ব্যবসার জন্য নয়, বরং এর কৌশলগত ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেই এটি তাঁর নজরে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন