যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব সুবিধা বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ‘দ্রুত অপসারণ’ নীতি সম্প্রসারণ আটকাতে মামলা
অভিবাসীদের বিতাড়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান ‘দ্রুত অপসারণ’ নীতি সম্প্রসারণের পদক্ষেপ আটকাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত সংগঠন মেক দ্য রোড নিউইয়র্ক গতকাল বুধবার ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার আদালতে এ মামলা করে।
নীতির পটভূমি ও ট্রাম্পের পদক্ষেপ
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের দেশ থেকে তাড়ানোর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘দ্রুত অপসারণ’ নীতির আওতা বাড়িয়েছে। আগে এই নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ১৪ দিনের মধ্যে এবং সীমান্ত থেকে ১০০ মাইলের ভেতরে আটক হওয়া অভিবাসীদের দ্রুত অপসারণ করা হতো। সম্প্রসারিত নীতির ফলে এখন থেকে যেকোনো জায়গায় আটক হওয়া অবৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে এটি প্রয়োগ করা যাবে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা, বৈধ মর্যাদা না পাওয়া এবং অন্তত দুই বছরের বসবাস প্রমাণ করতে না পারা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নতুন নীতি কার্যকর হবে।
মামলার অভিযোগ
মামলায় বলা হয়েছে, ‘এক্সপিডাইটেড রিমুভাল’ নীতি যথাযথ প্রক্রিয়া, অভিবাসন আইন এবং প্রশাসনিক আইন অনুসরণ করছে না। এটি অভিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করছে, কারণ তারা আইনজীবীর সাহায্য নিতে বা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারছেন না।
সংগঠনটি আদালতের প্রতি আবেদন জানিয়েছে, নীতিটি আগের শর্তাবলীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার জন্য নির্দেশ জারি করতে।
প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
মামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (ACLU) কৌঁসুলি আনন্দ বালাকৃষ্ণান বলেছেন, “এই নীতি ট্রাম্পকে যথাযথ প্রক্রিয়া ও সংবিধান এড়িয়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ এনে দেবে।”
মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, সম্প্রসারিত নীতি দ্রুত কার্যকর হওয়া সম্ভব, যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেও হতে পারে।
ট্রাম্পের আগের নীতির প্রতিফলন
২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ট্রাম্প ‘দ্রুত অপসারণ’ নীতি গ্রহণ করেছিলেন। সম্প্রসারিত এই নীতি তারই প্রতিফলন। ক্ষমতায় ফেরার পরই তিনি নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পথ প্রশস্ত করেন।
ট্রাম্পের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপকহারে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নই এখন তার অন্যতম অগ্রাধিকার।
.png)
.png)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন